এসএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য জীবনীশক্তি

জীবনীশক্তি হচ্ছে জীববিজ্ঞানের ৪র্থ অধ্যায়। এসএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য জীবনীশক্তি অধ্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সৃজনশীল প্রশ্ন এবং সে প্রশ্নগুলোর উত্তর সম্পর্কে আলোচনা করা হলো-
সৃজনশীল প্রশ্ন ১ : একদিন শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে CO2 বিজারণের গতিপথ বুঝাচ্ছিলেন। তিনি বললেন এই গতিপথে এক অণু গ্লুকোজ তৈরি হওয়ার সময় চক্রটি ছয়বার ঘুরবে। দ্বিতীয় ধাপে তিনি সালোকসংশ্লেষণে আলোর ভূমিকা ব্যাখ্যা করে ক্লাস শেষ করলেন।
ক. ক্লোরোফিলের প্রধান উপকরণ কী কী?
খ. শ্বসনের অভ্যন্তরীণ প্রভাবকসমূহ ব্যাখ্যা কর।
গ. শিক্ষক CO2 বিজারণের যে গতিপথ বুঝাচ্ছিলেন তার ব্যাখ্যা দাও।
ঘ. দ্বিতীয় ধাপে শিক্ষক যে বিষয়টি ব্যাখ্যা করলেন সে সম্পর্কে তুমি যা জান তা জীবনীশক্তি অধ্যায়ের আলোকে আলোচনা কর।

জীবনীশক্তি 

সমাধান : ক. ক্লোরোফিলের প্রধান উপাদান সূর্যের আলো, কার্বন ডাইঅক্সাইড, পানি।
খ. শ্বসনের অভ্যন্তরীণ প্রভাবকসমূহ হলো-
খাদ্যদ্রব্য : শ্বসন প্রক্রিয়ায় খাদ্যদ্রব্য ভেঙে শক্তি, পানি ও CO, নির্গত করে। তাই কোষের খাদ্যদ্রব্যের পরিমাণ ও ধরন শ্বসন হার নিয়ন্ত্রণ করে।
উৎসেচক : শ্বসন প্রক্রিয়ায় বহুবিধ এনজাইম বা উৎসেচক সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে। কাজেই এনজাইমের ঘাটতি শ্বসনের হার কমিয়ে দেয়।
কোষের বয়স : অল্পবয়স্ক কোষে বয়স্ক কোষ অপেক্ষা শ্বসনহার বেশি থাকে।
অজৈব লবণ : কোষের অভ্যন্তরে অজৈব লবণ থাকা বাঞ্ছনীয়।
কোষমধ্যস্থ পানি : এনজাইমে কার্যকারিতা প্রকাশের জন্য পানি প্রয়োজন।
গ. CO2 এর যে গতিপথ বোঝাচ্ছিলেন তা হলো C গতিপথ। নিচে তার ব্যাখ্যা দেওয়া হলো-
i. এই গতিপথের প্রথম স্থায়ী পদার্থ হলো ৪-কার্বনবিশিষ্ট অক্সালো এসিটিক অ্যাসিড।
ii. C4 উদ্ভিদে একই সাথে হ্যাচ ও স্ন্যাক চক্র এবং ক্যালভিন চক্র পরিচালিত হয়।
iii. C3 উদ্ভিদের তুলনায় C4 উদ্ভিদে সালোকসংশ্লেষণের হার বেশি এবং উৎপাদন ক্ষমতাও বেশি।
iv. ভুট্টা, আখ ও অন্যান্য ঘাস জাতীয় উদ্ভিদ, মুথা ঘাস, অ্যামারান্থাস ইত্যাদি উদ্ভিদে C4 পরিচালিত হয়।
ঘ. দ্বিতীয় ধাপে শিক্ষক যে বিষয়টি ব্যাখ্যা করলেন তা হলো সালোকসংশ্লেষণে আলোর ভূমিকা। সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় আলোর গুরুত্ব অপরিসীম।
পানি ও CO2 থেকে শর্করা তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় শক্তির উৎস আলো। সূর্যালোক ক্লোরোফিল সৃষ্টিতে অংশগ্রহণ করে। সূর্যালোকের প্রভাবেই পত্ররন্দ্র উন্মুক্ত হয়, CO2 পাতার অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে পারে এবং খাদ্য প্রস্তুতকরণে অংশগ্রহণ করে।
কিন্তু পাতায় যেটুকু আলো পড়ে তার অতি সামান্য অংশই সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত হয়। আবার আলোকবর্ণালির লাল, নীল, কমলা ও বেগুনি অংশটুকুতেই সালোকসংশ্লেষণ ভালো হয়। সবুজ ও হলুদ আলোতে সালোকসংশ্লেষণ ভালো হয় না। একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত আলোর পরিমাণ বাড়লে সালোকসংশ্লেষণের হার বেড়ে যায়। কিন্তু
আলোর পরিমাণ অত্যধিক বেড়ে গেলে পাতায় অভ্যন্তরস্থ এনজাইম নষ্ট হয়ে যায়, ক্লোরোফিল উৎপাদন কম হয়। ফলে সালোকসংশ্লেষণের হারও
কমে যায়। সাধারণত 400 nm থেকে 480 nm এবং 680 তরঙ্গদৈর্ঘ্য বিশিষ্ট আলোতে সালোকসংশ্লেষণ সবচেয়ে ভালো হয়।
সৃজনশীল প্রশ্ন ২ : উদ্ভিদের বেঁচে থাকার জন্য পানি, খনিজ লবণ, CO2, O2 ইত্যাদি বিশেষভাবে
প্রয়োজন। উক্ত উপাদানগুলো উপচিতি ও অপচিতি মূলক বিপাকীয় কার্যাবলি সম্পাদনে সাহায্য করে। উক্ত উপাদানগুলো পরিবহনে সাহায্য করে উদ্ভিদের
জটিল টিস্যু।
ক. কোষরস কী?
খ. পত্ররন্দ্রীয় প্রস্বেদন কীভাবে ঘটে?
গ. উদ্দীপকের উপাদানগুলো ব্যবহার করে যে উপচিতি মূলক বিপাক ঘটে তা বর্ণনা কর।
ঘ. উদ্দীপকের টিস্যুর গুরুত্ব জীবনীশক্তি অধ্যায়ের আলোকে ব্যাখ্যা কর।
সমাধান : ক. কোষস্থ পানি ও পানিতে দ্রবীভূত খনিজ লবণকে একত্রে কোষরস বলে।
খ. পাতায়, কচি কাণ্ডে, ফুলের বৃতি ও পাপড়িতে দুটি রক্ষীকোষ বিশিষ্ট এক প্রকার রন্ধ্র থাকে। এদেরকে পত্ররন্দ্র বলে। আলোর উপস্থিতিতে পত্ররন্জ খুলে যায়, ফলে প্রস্বেদন সংঘটিত হয়। কোনো উদ্ভিদের মোট প্রস্বেদনের ৯০-৯৫% হয় পত্ররন্ত্রের মাধ্যমে।
গ. উদ্দীপকের উপাদানগুলো ব্যবহার করে যে উপচিতিমূলক বিপাক ঘটে তা হচ্ছে সালোকসংশ্লেষণ। সালোকসংশ্লেষণ এমন একটি উপচিতিমূলক প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে সবুজ উদ্ভিদ শর্করা জাতীয় খাদ্য প্রস্তুত করে এবং উপজাত হিসেবে অক্সিজেন ত্যাগ করে।
সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার যে পর্যায়ে বিপুল পরিমাণ আলোক শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়ে ATP এবং NADPH+H’ তে সঞ্চারিত হয় তাকে আলোকনির্ভর পর্যায় বলে। এ পর্যায়ের জন্য আলো অপরিহার্য। এ পর্যায়ে
সৌরশক্তি রাসায়নিক শক্তিতে পরিণত হয়। এ প্রক্রিয়ায় ATP (অ্যাডিনোসিন ট্রাই ফসফেট) এবং NADPH+H’ (বিজারিত নিকোটিনামাইড অ্যাডিনিন
ডাই-নিউক্লিওটাইড ফসফেট) উৎপন্ন হয়। ATP এবং NADPH+H’ সৃষ্টিতে ক্লোরোফিল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
ক্লোরোফিল অণু আলোক রশ্মির ফোটন (Photon) শোষণ করে এবং এটি হতে শক্তি সঞ্চয় করে ADP (অ্যাডিনোসিন ডাই ফসফেট) এর সাথে অজৈব ফসফেট (Pi = inorganic phosphate) মিলিত করে ATP তৈরির এ প্রক্রিয়াকে ফটো ফসফোরাইলেশন বলে। এ প্রক্রিয়ার জন্য প্রদত্ত
বিক্রিয়া হলো-
সূর্যালোক ও ক্লোরোফিলের সহায়তায় উদ্ভিদ দেহস্থ পানি বিয়োজিত হয়ে অক্সিজেন, হাইড্রোজেন, প্রোটন ও ইলেকট্রন উৎপন্ন হয়। পানির এরূপ
ভাঙ্গনকে ফটোলাইসিস বা পানির সালোকবিভাজন বলে।
ফটোফসফোরাইলেশন প্রক্রিয়ায় ATP উৎপন্ন হয় এবং ইলেকট্রন NADP কে বিজারিত করে (reduction) NADPH+H’ উৎপন্ন হয়। এই ATP
এবং NADPH+H’ কে আত্তীকরণ শক্তি (Assimilatory power) বলে।
আলোকনির্ভর পর্যায়ের সার্বিক রাসায়নিক বিক্রিয়াটি হচ্ছে…।
ঘ. উদ্দীপকের টিস্যুটি হলো জটিল টিস্যু। নিচে জটিল টিস্যুর গুরুত্ব জীবনীশক্তি অধ্যায়ের আলোকে ব্যাখ্যা করা হলো :
i. কোষ পরিবহন ও এর অঙ্গকে দৃঢ়তা প্রদান করে।
ii. পানি ও খনিজ লবণ পরিবহনে এবং অঙ্গকে দৃঢ়তা প্রদান করা জটিল টিস্যুর ভেসেল কোষের প্রধান কাজ ।
iii. জটিল টিস্যুর জাইলেম প্যারেনকাইমা খাদ্য সঞ্চয় ও পানি পরিবহন করে।
iv. জটিল টিস্যুর জাইলেম ফাইবার পানি ও খনিজ পদার্থ পরিবহন, খাদ্য সঞ্চয়, উদ্ভিদকে যান্ত্রিক শক্তি ও দৃঢ়তা প্রদান করে।
V. জটিল টিস্যুর ফ্লোয়েম কোষগুলো পাতায় প্রস্তুত খাদ্য উদ্ভিদদেহের বিভিন্ন স্থানে পরিবহন করে।
নিজে করো :
সৃজনশীল প্রশ্ন ৩ : ক্যাডেট হাসিব ভাত খেতে পছন্দ করে। সে গ্লুকোজ থেকে শক্তি পায় যা ভাতে
বিদ্যমান। তার ছোট ভাই তাকে জিজ্ঞেস করল কীভাবে উদ্ভিদ শক্তি পায়, যার কারণে উদ্ভিদের বৃদ্ধি হয়। সে তার ভাইকে জানাল যে, উদ্ভিদ গ্লুকোজ থেকে শক্তি পায়, যা শ্বসনের সময় ভেঙে যায়।
ক. ফটোলাইসিস কী?
খ. C4 উদ্ভিদ বলতে কী বোঝায়?
গ. হাসিবের গৃহীত খাদ্য উপাদানের ২ অণু থেকে ক্রেবস চক্রে কী পরিমাণ শক্তি উৎপন্ন হয় তা জীবনীশক্তি অধ্যায়ের আলোকে ছকের মাধ্যমে ব্যাখ্যা কর।
ঘ. উক্ত প্রক্রিয়াটি বাধাগ্রস্ত হলে উদ্ভিদের মধ্যে কী প্রভাব ফেলবে তা জীবনীশক্তি অধ্যায়ের আলোকে বিশ্লেষণ কর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *